অভিযুক্ত প্রকাশ দেবনাথ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। স্থানীয়দের দাবি—শাসকদলীয় নেতাদের আশ্রয়ে প্রকাশ দেবনাথ প্রকাশ্যেই এলাকায় ঘোরাফেরা করছে।অভিযোগকারিণীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে যা জানা গেছে, প্রকাশ দেবনাথের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দশ বছর আগে তিনি সুরিয়া নামক একটি চিটফান্ড কোম্পানিতে ওই মহিলাকে মৌখিকভাবে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী, মহিলা বহু স্থানীয় আমানতকারীর কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে প্রকাশ দেবনাথের নিকট জমা দেন। প্রায় পনেরো মাস পর কোম্পানিতে জমা দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন—প্রকাশ দেবনাথ সমস্ত অর্থ নিয়ে এলাকার বাইরে পালিয়ে গিয়েছে।
এরপর কয়েকজন আমানতকারী ক্ষুব্ধ হয়ে মহিলার স্বামীর নামে কল্যাণপুর থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে এবং ওই মামলায় দেড় বছর সাজা ভোগ করতে হয়। মামলার খরচ, আইনি প্রক্রিয়া—সমস্ত চাপ সামলাতে গিয়ে পরিবারটি জমিজমা-সহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ হারায় বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। তাঁদের আর্থিক সামর্থ্য ভেঙে পড়ায় মামলাটি চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিযোগ—অর্থ ফেরত পেতে বহুবার প্রকাশ দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সুফল মেলেনি। শেষমেশ বিষয়টি স্থানীয় বিধায়কের হস্তক্ষেপে এক সালিশি বৈঠকে গড়ায়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়—এই মামলার সমস্ত খরচ প্রকাশ দেবনাথ বহন করবে।
এরই মধ্যে, গত ১০ নভেম্বর দিনের বেলায় আর্থিক দেনাপাওনা নিয়ে আলোচনা করতে মহিলা প্রকাশ দেবনাথের দোকানে যান। অভিযোগ, তখন প্রকাশ দেবনাথ তাঁকে রাতে বাড়িতে এসে টাকা সংগ্রহ করতে বলেন। সরল বিশ্বাসে ওই মহিলা রাতের কোনও এক সময়ে তাঁর বাড়িতে গেলে প্রকাশ দেবনাথ নাকি তাঁকে বলপূর্বক ধর্ষণ করেন। ভয়ভীতি, সামাজিক চাপ ও মানসম্মানের কারণে ওই মহিলা এতদিন থানায় অভিযোগ জানাননি।
অবশেষে সাহস সঞ্চয় করে তিনি ২৬ নভেম্বর খোয়াই মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যেহেতু ঘটনাস্থল কল্যাণপুর থানা এলাকার অন্তর্গত, তাই পরদিনই মামলার নথি নিয়ম অনুযায়ী কল্যাণপুর থানায় পাঠানো হয়।
কিন্তু *১২ দিনের বেশি সময় পার হলেও কল্যাণপুর থানার পক্ষ থেকে কোনও তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারিণী ও স্থানীয়দের দাবি*। তাঁদের অভিযোগ—অভিযুক্ত এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে, অথচ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি।
স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একটি ধর্ষণ মামলায় প্রথমিক তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ, পীড়িতার বয়ান, মেডিক্যাল প্রক্রিয়া—সবকিছুই যেখানে দ্রুত হওয়ার কথা, সেখানে অভিযোগ শোনার পরও এতদিন কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া পুলিশি নিষ্ক্রিয়তারই প্রমাণ।
অভিযোগকারিণী পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত শুরু ও অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রাও দোষীর দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছেন।