তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের ৫২তম জন্মদিনে তাঁকে ঘিরে আবেগে ভাসছে দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগত। সহ-অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজকরা বিজয়ের ব্যক্তিত্ব, কর্মনিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সংযোগের নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
অভিনেতা থেকে রাজনৈতিক নেতা— এই দীর্ঘ পথচলায় বিজয় যে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তা নিয়ে শিল্পমহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক দল গঠনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনীতিতে তাঁর উত্থানকে অনেকেই ‘অভূতপূর্ব’ বলে বর্ণনা করেছেন।
পরিচালক ভেঙ্কট প্রভু, যিনি বিজয়ের সঙ্গে ‘গোট’ ছবিতে কাজ করেছিলেন, জানান, বিজয় সবসময়ই অত্যন্ত সহজ-সরল এবং সহকর্মীদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন। তাঁর কথায়, ‘সুপারস্টার হয়েও বিজয় কখনও দূরত্ব তৈরি করেন না। তিনি এখনও আগের মতোই সাধারণ এবং প্রাণবন্ত।’
প্রযোজক জি ধনঞ্জয়ন বলেন, ‘বিজয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হল তিনি বেশি শোনেন, কম কথা বলেন। মানুষের কথা মন দিয়ে শোনার অভ্যাস তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।’
অভিনেতা শ্যাম, যিনি বিজয়ের সঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন, বলেন, ‘শৃঙ্খলা, আত্মসম্মান এবং কঠোর পরিশ্রম— এই তিন গুণ বিজয়কে বিশেষ উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী।’
অভিনেতা মহাত রাঘবেন্দ্র জানান, কেরিয়ারের শুরুতে বিজয়ের কাছ থেকে পাওয়া একটি পরামর্শ আজও তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। বিজয় তাঁকে বলেছিলেন, ‘সবসময় আনন্দে থাকো, অতিরিক্ত চাপ নিও না।’
শুধু সহকর্মীরাই নন, অভিনেত্রী মালবিকা মোহননও বিজয়ের একটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ‘বিজয় যা প্রতিশ্রুতি দেন, তা রাখার চেষ্টা করেন। এই গুণ বর্তমান সময়ে খুবই বিরল।’
অভিনেত্রী সামান্থাও সম্প্রতি বিজয় সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, ‘বিজয় শুধু পর্দার নায়ক নন, তিনি বরাবরই বড় কিছুর জন্য তৈরি ছিলেন। তাঁর জনপ্রিয়তা এবং মানুষের সঙ্গে সংযোগ সেই কথাই প্রমাণ করে।’
তামিল চলচ্চিত্র জগতের একাধিক ব্যক্তিত্বের মতে, বিজয়ের সাফল্যের মূল রহস্য তাঁর বিনয়, কর্মনিষ্ঠা এবং মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা।