২৬ জুন ২০২৬ ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করল মার্কিন প্রযুক্তি ও ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সংস্থার সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি জানান, আগামী ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে মোট ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
অ্যামাজনের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্লাউড পরিষেবা, ডেটা সেন্টার এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারিত করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে AI-নির্ভর পরিষেবা ও ক্লাউড প্রযুক্তির উন্নয়নে।
সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে শুধুমাত্র AI এবং ক্লাউড অবকাঠামো খাতেই ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে নতুন ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা এবং বর্তমান পরিকাঠামো সম্প্রসারণে।
অ্যামাজনের ক্লাউড শাখা AWS-এর মুম্বই ও হায়দরাবাদে অবস্থিত ডেটা সেন্টারগুলির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে দেশীয় স্টার্টআপ, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলি উন্নতমানের AI পরিষেবা, ডেটা স্টোরেজ এবং ডিজিটাল সমাধানের সুবিধা আরও সহজে পাবে বলে দাবি সংস্থার।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে অ্যান্ডি জ্যাসি বলেন, ভারতের বাজার অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং এখানে সংস্থার বিভিন্ন পরিষেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তিনি জানান, ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবেই নিজেদের দেখতে চায় অ্যামাজন।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ব্যবসা শুরু করার পর থেকে অ্যামাজন ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করেছে। পাশাপাশি ভারতীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তারা।
অ্যামাজনের দাবি, আগামী দিনে আরও কয়েক মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এই বিনিয়োগের ফলে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে AI-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রসারেও জোর দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ভারতে অ্যামাজনের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে বলে সংস্থার অনুমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিয়োগ ভারতের প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন গতি আনতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলির এই ধরনের বিনিয়োগ ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং উদ্ভাবনী শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।