বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে একদিকে যখন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ প্রতিবাদে সরব, অন্যদিকে সরকারও দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায়কে “প্রহসনমূলক” দাবি করে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। এর প্রতিবাদে ১ জুলাই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। ছাত্রলীগের দাবি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, ডিজিটাল অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক সাফল্যকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার পরিচালনা করা হচ্ছে।
ছাত্রলীগের অভিযোগ, যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মূলত ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল, বর্তমানে সেটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। সংগঠনের বক্তব্য, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় সংবিধান ও আইনের চেতনার পরিপন্থী।
অন্যদিকে সরকারের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত দলটি “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ” বা অন্য কোনও নামে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। সরকারের দাবি, আদালতের নির্দেশনা কার্যকর রাখতে আইন অনুযায়ী এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তিনি জানান, বাংলাদেশের কোনও গণমাধ্যম শেখ হাসিনার বক্তব্য বা ভাষণ সম্প্রচার করতে পারবে না। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের উচিত সেই নির্দেশ মেনে চলা। সরকার নিজে থেকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে না চাইলেও আদালতের আদেশ অমান্য করা হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের তৎপরতা এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে আলোচনা বাড়ায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের দাবি, দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তা বাড়ছে এবং বিভিন্ন স্থানে সংগঠনের কর্মসূচিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ষড়যন্ত্র-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে আদালতের নির্দেশনা, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদ—এই দুইয়ের সংঘাতে আগামী দিনে দেশের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক মহলের।