ঢাকায় তরুণ হিন্দু পুরোহিতকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ, মুক্তিপণ আদায়ের পর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার

ঢাকায় তরুণ হিন্দু পুরোহিতকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ, মুক্তিপণ আদায়ের পর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার

2 Min Read

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এক তরুণ হিন্দু পুরোহিত ও আইন বিভাগের ছাত্রকে অপহরণ করে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে যাওয়ার পর বন্ধুরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

আহত যুবকের নাম সুভাষ দেউড়ি। তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজের ছাত্র। পাশাপাশি গত কয়েক মাস ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিত হিসেবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, সোমবার রাতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি সুভাষকে অপহরণ করে। এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযুক্তরা তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করতে বাধ্য করে।

সুভাষের বোন জানিয়েছেন, গভীর রাতে ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফোন করে দ্রুত টাকা পাঠানোর অনুরোধ করেন। পরে অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে পরিবার প্রায় ২৬ হাজার টাকা পাঠায়। টাকা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে, সুভাষের রুমমেট জানান, ভোরের দিকে নারিন্দা এলাকার একটি রাস্তার পাশে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। মাথা, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাঁর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগও নিখোঁজ ছিল।

রুমমেটের দাবি, সুভাষ জানিয়েছেন যে রাতভর তাঁকে মারধরের পাশাপাশি বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।

বর্তমানে সুভাষ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এদিকে ওয়ারী থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এই অপহরণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *