*চেন্নাই:* তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে (TVK) সরকারকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, সরকার গঠনের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একাধিক বিধায়ককে ভাঙিয়ে সরকার ফেলানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে ডিএমকের এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠদের নাম উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা ছিল টিভিকে-র ১৫ জন বিধায়কের একযোগে পদত্যাগ করিয়ে সরকারকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা। এক টিভিকে বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়।
উথাঙ্গারাই কেন্দ্রের টিভিকে বিধায়ক এন. এলাইয়ারাজা অভিযোগ করেন, একটি বেসরকারি কনসালটেন্সি সংস্থার প্রতিনিধি তাঁকে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে *৩৫ কোটি টাকা* দেওয়ার প্রস্তাব দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য তাঁকে ভয় দেখানো হয়।
তদন্তে প্রথমে চেন্নাই থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে করুর থেকে আরও দু’জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের সঙ্গে ডিএমকের বিধায়ক সেন্টিল বালাজির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এদিকে টিভিকে সরকারের মন্ত্রী সি. টি. নির্মল কুমার অভিযোগ করেছেন, ডিএমকের কয়েকজন নেতা এবং এআইএডিএমকের কিছু নেতার সহযোগিতায় টিভিকে-র বিধায়কদের দলে টানার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন বিধায়ককে ১০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ডিএমকের মুখপাত্র এ. সারাভানান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই টিভিকে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথ্য ফাঁস করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। প্রমাণ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে ডিএমকে।
উল্লেখ্য, বিজয় এবং ডিএমক নেতা সেন্টিল বালাজির রাজনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। অতীতেও উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে।