*নয়াদিল্লি:* কংগ্রেসের সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে রাহুল গান্ধী। দলের অভ্যন্তরে এমন একটি ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, দীর্ঘদিনের সংগঠনিক নেতাদের তুলনায় নতুন প্রজন্মের পেশাদার, প্রাক্তন আমলা কিংবা অন্য দল থেকে আসা নেতাদের ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন তিনি। সাম্প্রতিক কয়েকটি সাংগঠনিক নিয়োগ সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
এরই মধ্যে উত্তরপ্রদেশের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজেন্দ্র পাল গৌতমকে, যিনি অতীতে আম আদমি পার্টির নেতা ছিলেন এবং পরে কংগ্রেসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি দলের তফসিলি জাতি বিভাগেরও দায়িত্বে রয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে এই নিয়োগকে কংগ্রেসের সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হলেও, দলের বহু পুরনো নেতার মধ্যে তা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, রাহুল গান্ধী এমন একটি নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাইছেন, যারা প্রচলিত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা রাজ্যস্তরের পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে থেকে কাজ করবে। সেই কারণেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে স্থান পেয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আসা একাধিক ব্যক্তি, যাঁদের অনেকেই সংগঠনের ঐতিহ্যগত ধাপ পেরিয়ে রাজনীতিতে আসেননি।
অন্যদিকে কংগ্রেসের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা বহু নেতা ও কর্মী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, আন্দোলন, নির্বাচন ও সাংগঠনিক লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে তাঁদের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—একদিকে নতুন রাজনৈতিক ভাবনা ও নেতৃত্বকে সামনে আনা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মীদের আস্থা অটুট রাখা। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই দলের জন্য আগামী দিনে বড় পরীক্ষা হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস নতুন সাংগঠনিক মডেলের দিকে এগোতে চাইছে। তবে এই পরিবর্তন কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি পুরনো সংগঠনের অভিজ্ঞতাকেও কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয় তার ওপর।