ইন্দাস জলবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে সরব হয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব দাবি করেছে, এই চুক্তি কার্যকর না থাকলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সম্মেলনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ইন্দাস জলচুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার কোনও সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী নদীর জলকে রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং এই চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার অন্যতম ভিত্তি।
পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও বলেন, ইন্দাস নদীর জল পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা। জলপ্রবাহে হস্তক্ষেপের যে কোনও প্রচেষ্টা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে জলসম্পদকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে নতুন কনভেনশনের প্রস্তাবও দেন।
পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ইন্দাস জলচুক্তির ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর প্রতি বিশ্বের আস্থা কতটা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধে পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। ভারতের বক্তব্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের পাহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এরপর থেকেই এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।