নয়াদিল্লি:*
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, চুক্তির অধিকাংশ বিষয়েই দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এখন মাত্র কয়েকটি আইনি ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে সমাধান হলেই চুক্তি বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পীযূষ গোয়েল বলেন, ভারত এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি চায়, যা উভয় দেশের জন্যই সমানভাবে লাভজনক হবে এবং ভারতীয় পণ্যের জন্য মার্কিন বাজারে বাড়তি সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মূল উদ্দেশ্যই হল প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় উন্নত বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক ছাড়, অ-শুল্ক বাধা কমানো, বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আলোচনা প্রায় শেষ। তবে এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি আইনসম্মত কাঠামো তৈরি করতে হবে, যার মাধ্যমে ভারতকে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই চুক্তি কার্যকর করা যাবে।
পীযূষ গোয়েলের কথায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা সুইজারল্যান্ড—সব দেশই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ভারতও সেই একই নীতি অনুসরণ করছে।
### *আলোচনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়ের পার্থক্য*
চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পুরো আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে। তবে ভারত ও আমেরিকার সময়ের পার্থক্যের কারণে অনেক বৈঠক গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে, যা তাঁর দলের সদস্যদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা সমস্যা হয়নি, কারণ আমি রাত জেগে কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু আমার সহকর্মীদের অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনায় থাকতে হয়েছে।”
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আলোচনার পুরো সময়ে কোনও ধরনের উত্তেজনা বা অচলাবস্থা তৈরি হয়নি। দুই দেশের আলোচক দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বোঝাপড়া ছিল অত্যন্ত ভালো।
### *চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ওয়াশিংটনও*
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির অধিকাংশ বিষয় ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁর মতে, এখন মাত্র এক বা দুই শতাংশ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দুই দেশই খুব দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
রাষ্ট্রদূতের দাবি, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে এবং এটি দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।
উল্লেখ্য, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর একাধিক দফায় বৈঠকের মাধ্যমে বেশিরভাগ বিষয়েই সমঝোতা হয়েছে। এখন শেষ কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি হলেই বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পথ আরও সুগম হবে।