ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করল ইংল্যান্ড। শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক হ্যারি কেনের অসাধারণ নৈপুণ্যে গণতান্ত্রিক কঙ্গোকে (ডিআর কঙ্গো) ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্স। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে কেন যে গোলটি করেন, সেটিকে ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই পিছিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। ডিআর কঙ্গোর রক্ষণভাগ অত্যন্ত সংগঠিত ফুটবল খেলায় ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল। তবে শেষ ১৫ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। প্রথমে সমতা ফেরানোর পর ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে করেন অবিশ্বাস্য জয়সূচক গোল।
দ্বিতীয় গোলটির সূচনা হয় বদলি ফুটবলার অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে। বক্সের মুখে বল পেয়ে পিঠ গোলের দিকে রেখেই প্রথমে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বেরিয়ে আসেন কেন। এরপর পরপর কয়েকজন ডিফেন্ডারের চাপ সামলে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জড়িয়ে দেন জালের উপরের কোণে। ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি বলের গতিপথ বুঝে ওঠার আগেই গোল হয়ে যায়।
এই জয়ের ফলে শুধু শেষ ষোলোয় ওঠাই নয়, ব্যক্তিগত রেকর্ডেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন হ্যারি কেন। বিশ্বকাপে এটি তাঁর ১৩তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের ১২ গোলের রেকর্ড অতিক্রম করেন।
এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও একধাপ ওপরে উঠে এলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের আশাও আরও উজ্জ্বল করেছে।
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল কেনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের একটি বিশেষ গুণ থাকে—সুযোগ পেলেই তারা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তাঁর মতে, হ্যারি কেনও সেই শ্রেণির ফুটবলার, যাঁদের মধ্যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির মতো বড় তারকাদের মানসিকতা দেখা যায়।
শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে সহ-আয়োজক মেক্সিকো। কেনের এই দুর্দান্ত ফর্ম বজায় থাকলে টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।