*খয়েরপুর:* আগামী *২২ জুলাই* থেকে শুরু হচ্ছে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী *খারচি মেলা ও পূজা*। এবারের মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজক কমিটি ও প্রশাসন।
রবিবার খয়েরপুরের চতুর্দশ দেবতা বাড়ি সংলগ্ন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য জানান বিধায়ক *রতন চক্রবর্তী*। উপস্থিত ছিলেন মণ্ডল সভাপতি রাজেশ ভৌমিক-সহ মেলা কমিটির সদস্যরা।
বিধায়ক জানান, এবার খারচি মেলার অন্যতম আকর্ষণ হবে *‘এক পেড় মা কে নাম’* কর্মসূচি। পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে মেলার একদিনে প্রায় *এক হাজার গাছের চারা* দর্শনার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত দু’দফা প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও একটি বৈঠক করা হবে।
স্টল বরাদ্দ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন রতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, *৭ জুলাই* থেকে দুটি কাউন্টারের মাধ্যমে স্টলের আবেদনপত্র বিতরণ করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাউন্টারও খোলা হবে। গত বছরের মতো এবারও স্টল ভাড়ার কোনও বৃদ্ধি করা হয়নি।
তিনি স্পষ্ট জানান, স্টল বরাদ্দে কোনও ধরনের সুপারিশ বা বিশেষ সুবিধার সুযোগ থাকবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় *লটারির মাধ্যমে* স্টল বরাদ্দ করা হবে, যাতে প্রত্যেক আবেদনকারী সমান সুযোগ পান।
খারচি মেলায় আগত সাধু-সন্তদের জন্যও এবার উন্নত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিধায়কের দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে তাঁদের থাকার, বিশ্রাম ও খাবারের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং এই ব্যয় বহন করছে মেলা কমিটি।
মেলার সাংস্কৃতিক কর্মসূচির পাশাপাশি কৃতি ছাত্র-ছাত্রী, দিব্যাঙ্গ ব্যক্তি এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা মানুষদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এছাড়া স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের উৎপাদিত সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য বিশেষ স্টলের ব্যবস্থাও থাকবে।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের সাংসদ, মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতির আশা প্রকাশ করেন রতন চক্রবর্তী। একইসঙ্গে তিনি জানান, চতুর্দশ দেবতা মন্দিরের সংস্কার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং শীঘ্রই তা সম্পূর্ণ হবে।
বিধায়কের আশা, প্রতি বছরের মতো এবারও খারচি মেলা জাতি-উপজাতি নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হবে এবং রাজ্যের সম্প্রীতির ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় করবে।