*তিরুবনন্তপুরম:* টানা ভারী বৃষ্টির জেরে কেরলের ওয়েনাড় জেলায় নির্মীয়মাণ টানেল প্রকল্পে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে এই দুর্ঘটনায় অন্তত *২ জনের মৃত্যু* হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত *৬ জন। প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও **প্রায় ১০ জন শ্রমিক* আটকে থাকতে পারেন।
জানা গিয়েছে, মালাপ্পুরম ও ওয়েনাড়কে সংযোগকারী *আনাক্কমপয়িল–মেপ্পাডি টানেল সড়ক প্রকল্পের* নির্মাণস্থলের কাছে, কল্লাডি এলাকার *মীনাক্ষী সেতুর* নিকট এই ধস নামে। ঘটনার সময় সেখানে একাধিক নির্মাণ শ্রমিক কাজ করছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে *দমকল, **জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)* এবং জেলা প্রশাসনের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কেরলের রাজস্বমন্ত্রী *এ.পি. অনিল কুমার* জানান, ৩০ সদস্যের এনডিআরএফ দল উদ্ধারকাজে নেমেছে এবং অভিযান যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এলাকায় *২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত* হয়েছে। অতিবৃষ্টির জেরেই পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে এই ধস নেমেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ধসে নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃত একাধিক গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর কেরলের মুখ্যমন্ত্রী *জরুরি বৈঠক* ডেকে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ তদারকির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী *টি. সিদ্দিক* দাবি করেছেন, এটি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক নয়, বরং *মানবসৃষ্ট ভূমিধস*। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আগেই সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থাকে সম্ভাব্য ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতির জেরে *ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)* ওয়েনাড় ও কোঝিকোড় জেলায় *রেড অ্যালার্ট* জারি করেছে। মালাপ্পুরম, কন্নুর এবং কাসারগোড়ে জারি রয়েছে *অরেঞ্জ অ্যালার্ট*। আগামী কয়েকদিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভূমিধসপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ওয়েনাড়ে *২০২৪ সালের জুলাই মাসে* ভয়াবহ ধসে *২৯৮ জনের মৃত্যু* হয়েছিল। সেই ঘটনার এক বছর পর ফের বড়সড় ভূমিধসের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ল।