বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে একটি মাদ্রাসায় ভূমিধস ও ভবন ধসের ঘটনায় অন্তত ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েকজন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের জেরে মাদ্রাসা ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে। সেই সময় সেখানে ৩০ জনেরও বেশি শিশু কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। ধস নামার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান জানান, এখনও অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার জেলায় ভূমিধস ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় মোট অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি শরণার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। পাহাড়ি ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী বসতি থাকায় বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি প্রতিবছরই বেড়ে যায়।