আগরতলা, প্রতিনিধি: রবিবার ঃ- পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে পশ্চিম ত্রিপুরার নতুননগর বালিকা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা সর্বানন্দ সোনোয়াল।
অনুষ্ঠানের সূচনায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তিনি পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সবুজায়নের বার্তা পৌঁছে দেন। এদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও উপস্থিত অতিথিরাও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, কর্পোরেটর জগদীশ দাস সহ প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন সমগ্র বিশ্বের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনও বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলসম্পদ রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে সারা দেশে ‘**এক পেড় মা কে নাম**’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের মায়ের নামে অন্তত একটি গাছ রোপণের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। মন্ত্রীর কথায়, “এই কর্মসূচি একদিকে যেমন মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক, অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
সর্বানন্দ সোনোয়াল উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপিত গাছের সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষাকে সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করেন এবং তার পরিচর্যা করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও সুস্থ ভারত গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেন।
পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সর্বানন্দ সোনোয়াল পুনরায় পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ভারত গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বৃক্ষরোপণকে শুধুমাত্র একটি সরকারি কর্মসূচি হিসেবে না দেখে জনআন্দোলনে পরিণত করতে হবে।”
উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়া এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা পৌঁছে যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।