আগরতলা, প্রতিনিধি:* নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সোমবার রাজধানী আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস।
প্রদেশ যুব কংগ্রেসের আহ্বানে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিক্রমা করে। মিছিলে বিপুল সংখ্যক যুব কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মিছিল চলাকালীন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।
যুব কংগ্রেসের দাবি, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বেকারত্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এসব বিষয়কে সামনে রেখেই আন্দোলনে নেমেছে সংগঠনটি।
মিছিলটি আরএমএস চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের অগ্রগতি রুখে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা সড়কের উপর বসে পড়ে এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।
সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেসের সভাপতি নীলকমল সাহা অভিযোগ করেন, গত এক মাস ধরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্রীয় সরকার এবং শিক্ষামন্ত্রক এ বিষয়ে সন্তোষজনক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নীলকমল সাহা বলেন, দেশের প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। এই ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ করা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে যুব কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ অযথা বলপ্রয়োগ করেছে। তাঁর দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জে যুব কংগ্রেসের এক কর্মী আহত হয়েছেন এবং মাথায় চোট পেয়েছেন।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহার করে বলে জানা যায়। পরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে এডি নগর পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, মোট ৭২ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সীমিত মাত্রায় লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী আগরতলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।