ইরানের পুনর্গঠনের জন্য সম্ভাব্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং কীভাবে তা ব্যবহার করা হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মধ্যপ্রাচ্য সফরে যাচ্ছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, তিন দিনের এই সফরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত এবং বাহারিন সফর করবেন রুবিও। সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ইরান ইস্যুতে আলোচনা করা এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট করা।
মার্কিন প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সামনে এসেছে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল তৈরির পরিকল্পনা। তবে এই অর্থের জোগান কোথা থেকে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত ও বাহারিনের মতো দেশগুলির আশঙ্কা, পুনর্গঠনের নামে ইরান ভবিষ্যতে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বৃদ্ধি করতে পারে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট কোনও অবস্থান না থাকায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। অতীতে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সময়ে এই দেশগুলিও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কার মুখে পড়েছিল। ফলে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, কোনও মার্কিন করদাতার অর্থ সরাসরি এই তহবিলে ব্যবহার করা হবে না। তবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় এই তহবিল গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কো রুবিওর এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করার জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এখন নজর, এই তহবিল গঠনে উপসাগরীয় দেশগুলি কতটা এগিয়ে আসে এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়।