অভিযোগের আগেই গ্রেফতার! দীপঙ্কর ভক্ত মামলা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে—তেলিয়ামুড়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে শ্রমিক সমাজ।

অভিযোগের আগেই গ্রেফতার! দীপঙ্কর ভক্ত মামলা ঘিরে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে—তেলিয়ামুড়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে শ্রমিক সমাজ।

admin
2 Min Read

তেলিয়ামুড়া ত্রিপুরা শনিবার ঃ     বাস কন্টাক্টর দীপঙ্কর ভক্তকে গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে তেলিয়ামুড়া থানা এলাকায় শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক ও ক্ষোভ। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যে মামলার ফাঁদ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র। ঘটনাটি শনিবার সকালে সামনে আসে।

পুলিশ সূত্রে অভিযোগ, শুক্রবার সকালে আগরতলা থেকে তেলিয়ামুড়া গামী একটি চলন্ত বাসে এক মহিলা যাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। ওই মহিলা শুক্রবার রাতেই তেলিয়ামুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় নাটকীয় মোড়।

বাস শ্রমিকদের দাবি, লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার আগেই শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটা নাগাদ হাওয়াই বাড়ি নাকা পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ দীপঙ্কর ভক্তকে থানায় তুলে নিয়ে আসে। অথচ থানায় অভিযোগ দায়ের হয় অনেক পরে, শুক্রবার রাতে।

শ্রমিকদের প্রশ্ন—লিখিত অভিযোগের আগেই কীভাবে পুলিশ একজনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করল? উল্লেখযোগ্যভাবে, দীপঙ্কর ভক্তের বাড়ি রাজধানী আগরতলার অন্তর্গত।

ঘটনা এখানেই থামেনি। তেলিয়ামুড়া বাস চালক সংঘের এক শীর্ষ নেতা তপন দাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিকরা। অভিযোগ অনুযায়ী, মহিলার অভিযোগের সূত্র ধরে বাসস্ট্যান্ডে দীপঙ্কর ভক্তকে মারধর করা হয় এবং পরবর্তীতে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। শ্রমিকদের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দীপঙ্করকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর জন্য অপ্রত্যক্ষ মদত দেওয়া হয়েছে।

এই সব অভিযোগকে সামনে রেখে শনিবার সকালে বিক্ষুব্ধ বাস শ্রমিকরা তেলিয়ামুড়া থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তাঁদের সাফ বক্তব্য, একজন শ্রমজীবী মানুষকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, গোটা ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসন কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। তবে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া দীপঙ্কর ভক্তকে শনিবার খোয়াই জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে।

এই ঘটনায় শ্রমিক মহলে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে। শ্রমিকদের বক্তব্য, যদি সত্যিই অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি হোক। কিন্তু মিথ্যে অভিযোগে কাউকে ফাঁসানো হলে তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল—আইনের শাসন কি সত্যিই নিরপেক্ষ, না কি চাপের মুখে পড়ে যাচ্ছে প্রশাসন?

Share This Article
Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *