কৈলাসহরে ঠিকাদারি কাজ ও রাজনৈতিক হুমকি ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আনলেন বিজেপি কৈলাসহর মণ্ডলের প্রাক্তন সম্পাদক ও দলের পুরনো কর্মী ইমরান আলী। তাঁর অভিযোগ, কৈলাসহরের শহর উত্তরাঞ্চল এলাকায় মুসলিম নাগরিকদের বিজেপি করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কেউ বিজেপি করলে তাঁকে ঠিকাদারি কাজ থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দিচ্ছেন কংগ্রেস দলের কিছু নেতা।
ইমরান আলী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কৈলাসহরে ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে যে মারামারি ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে, তার নেপথ্যে কংগ্রেস দলের নেতা-কর্মীরাই যুক্ত। আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপির একাংশ নেতারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের ইশারাতেই ঠিকাদারি কাজ নিয়ে মাফিয়াগিরি, গুন্ডারাজ, বেআইনি বাণিজ্য ও সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইমরান আলী কৈলাসহরের ইয়াজিখাওরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা। ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের আগেই তিনি ও তাঁর পরিবার প্রকাশ্যে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৈলাসহর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিতিশ দে-র সঙ্গে প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নেন তিনি। ২০১৯ সালের গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর ছোট ভাই সুফিয়ান আলী বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। ২০২২ সালে সিদ্ধার্থ দত্ত মণ্ডল সভাপতি থাকাকালীন ইমরান আলী ছিলেন কৈলাসহর মণ্ডলের সম্পাদক। এমনকি ২০২৪ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর পরিবারের সদস্য মমতাজ বেগম বিজেপির প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ইমরান আলীর অভিযোগ, দলের দুর্দিনে যাঁরা বিজেপির সঙ্গে ছিলেন, বর্তমানে দলের সুসময়ে তাঁদেরই নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে হচ্ছে। অনলাইনে টেন্ডার পেয়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করলে কংগ্রেস কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে কাজ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। কাজ না ছাড়লে হামলা, মারধর ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর শারীরিক হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এই সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে কৈলাসহর ও ইরানি থানায় একাধিকবার নামধাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ। ইমরান আলীর দাবি, বিজেপিরই একাংশ নেতা পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন যাতে কংগ্রেসের অভিযুক্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, বিজেপির এক নেতা সামাজিক মাধ্যমে দলের পুরনো কর্মীদের বিদ্রুপ করে পোস্ট করেছেন এবং গোপনে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। ওই নেতা ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিয়ে কংগ্রেসের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছেন বলেও দাবি করেন ইমরান আলী।
এই পরিস্থিতিতে থানার উপর আস্থা না রেখে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইমরান আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি দলের উর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানান তিনি। শহরবাসীর একাংশের আশঙ্কা, দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কৈলাসহরে ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে আরও বড় ধরনের অশান্তি ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।