ত্রিপুরা সোনামুড়া শনিবার ঃ শনিবার দুপুরের পর কাঠালিয়ার উত্তর মহেশপুর পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্ত পাড়ার পশ্চিমাংশে ঘটে যায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকজন কিশোর খেলার ছলে শুকনো নাড়া খেতে আগুন ধরিয়ে দেয়। উত্তরের দমকা হাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের একাধিক কৃষি জমিতে। পাশের কৃষি খেতে সংরক্ষিত গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে রাখা খড়ও আগুনে পুড়ে যায়। ঘটনাস্থল এবং আশেপাশের এলাকা কার্যত আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর একটায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, “দূর থেকে মনে হচ্ছিল যেন পুরো কৃষি মাঠ আগুনে দগ্ধ।” কিশোরেরা মুহূর্তের মধ্যেই পালিয়ে যায়, কিন্তু আগুনের বিস্তার রোধ করতে স্থানীয়রা তৎপর হয়। কৃষক চন্দন মজুমদার জানান, গবাদি পশুর জন্য ৬ হাজার টাকার খড় অন্যের কাছ থেকে ক্রয় করে জমিতে শুকানোর জন্য রেখেছিলেন। হঠাৎ আগুন লেগে খড় সহ অন্যান্য কৃষি জমি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
দুপুরের এই সময় মাঠে লোকজন উপস্থিত ছিল না। পরে স্থানীয়রা পুকুর থেকে বালতি ভর্তি জল নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। বাতাসের তীব্রতা কমার কারণে এবং আরও লোকজন সহায়তা করতে আসায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাশেই রাবার বাগান থাকায় যদি আগুন ছড়িয়ে যেত, তা আরও বৃহৎ ক্ষতির কারণ হতে পারত।
স্থানীয়রা সতর্ক করেছেন, সামনের শুকনো মৌসুমে আগুনের কারণে কৃষি ক্ষতি এবং বৃহত্তর বিপর্যয় এড়াতে সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। খেলার ছলে আগুন ধরানো বা আগুনের সঙ্গে খেলাধুলা করা সম্পূর্ণ বিপজ্জনক এবং এটি কৃষক ও স্থানীয় জনজীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কৃষক চন্দন মজুমদার বলেন, “আমার খড়ের জন্য অনেক খরচ করেছি। এক মুহূর্তের অবহেলা বা ছেলের খেলাধুলার কারণে সব শেষ হয়ে গেল। এর থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত, আগুন নিয়ে কখনও খেলা করা ঠিক নয়।”
এই ঘটনার পর এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পাড়ার মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিয়ে থাকছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।