ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের আবহে ফের নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জহিদ উর রহমানকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন বাকযুদ্ধ। ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ঢাকা।
বাংলাদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা মোটেই সন্তোষজনক নয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক মুখপাত্রের বক্তব্য, নির্ধারিত কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আগে থেকে ভারতকে জানানো হয়েছিল যে ডা. জহিদ উর রহমান ভারত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী দেশগুলির জোট ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন’ (IORA)-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তারপরও দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ ও ১৬ জুন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত IORA-র ২৮তম সিনিয়র অফিসিয়ালস কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে ভারতে পৌঁছেছিলেন ডা. জহিদ উর রহমান।
কিন্তু বিমানবন্দরে অভিবাসন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার সময় তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রতিবাদও জানায় বাংলাদেশ।
অন্যদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ডা. জহিদ উর রহমান ব্যক্তিগত পাসপোর্টে সার্ক ভিসা ব্যবহার করে ভারতে এসেছিলেন। বিমানবন্দরে তাঁর সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে রুটিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়।
ভারতের দাবি, সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ হওয়ার পরও ডা. রহমান নিজেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগে থেকেই সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথাযথ তথ্য দেওয়া থাকা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি কূটনৈতিক সৌজন্যের পরিপন্থী।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও এই ঘটনা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।