তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, আহতদের জন্যও আর্থিক সহায়তা; উদ্ধারকাজে এখনও জোর প্রশাসনের

তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, আহতদের জন্যও আর্থিক সহায়তা; উদ্ধারকাজে এখনও জোর প্রশাসনের

admin
2 Min Read

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯-এ। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২০ জন।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১৫ জনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। চারজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। গুরুতর আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও আর্থিক সহায়তাই প্রিয়জন হারানোর ক্ষতি পূরণ করতে পারে না। তবুও এই কঠিন সময়ে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে।”

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ববর্তী প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে শহরের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের কারণে কলকাতা বিপজ্জনক অবস্থার মুখে পড়েছে। গার্ডেনরিচের ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের অব্যবস্থাপনার ফলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। নির্মীয়মাণ গোডাউনের ডেভেলপার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। প্রশাসনের দাবি, নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও অনুমোদনপত্র খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, উদ্ধারকারী বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ভারী যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে।

তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *