উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ফের নজর কাড়লেন পর্তুগিজ মহাতারকা ফুটবলের ইতিহাসে একের পর এক রেকর্ড নিজের নামে লিখে চলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে পর্তুগালের ৫-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে তিনি শুধুমাত্র গোল করেই নয়, বরং নিখুঁত দলগত ফুটবলের নমুনা উপহার দিয়েও প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেন রোনাল্ডো। এই জোড়া গোলের সুবাদে তিনি ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েন। ২০০৬ থেকে ২০২৬—দীর্ঘ দুই দশক জুড়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করেন ৪১ বছর বয়সি এই তারকা।
তবে ম্যাচের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে নুনো মেন্ডেসের করা গোলটি। গোলের মুহূর্তে রোনাল্ডোর উপস্থিতি এবং তাঁর কৌশলী ভূমিকা প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করে দেয়। ম্যাচের ধারাভাষ্যকাররা জানান, রোনাল্ডোকে ঘিরেই প্রতিপক্ষের সমস্ত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত ছিল, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগান নুনো মেন্ডেস।
ম্যাচ শেষে রোনাল্ডো নিজেই জানান, দ্বিতীয় গোলটি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি সতীর্থকে সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর কথায়, গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই বিশেষ কৌশল নেওয়া হয়েছিল এবং সেটি সফলও হয়েছে।
রোনাল্ডো বলেন, “আমি দ্বিতীয় বলটি নেওয়ার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু আমরা গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করার পরিকল্পনা করি এবং নুনোকে জোরে শট নিতে বলি। আমরা জানতাম, তাতে গোল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকব। বাইরের সমালোচনা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কিন্তু মাঠে আমরা একসঙ্গে লড়াই করছি। আজ দলের অনেকেই গোল করেছে, সেটাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।”
উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রোনাল্ডো জানান, আগের ম্যাচের তুলনায় দল অনেক উন্নতি করেছে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে ড্র করার পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল পর্তুগাল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে সমালোচকদের জবাব দিয়েছে রবার্তো মার্টিনেজের দল।
ম্যাচ শেষে রোনাল্ডো বলেন, “দল অসাধারণ খেলেছে এবং আগের ম্যাচের তুলনায় অনেক উন্নতি করেছে। ব্যক্তিগত রেকর্ড অবশ্যই ভালো লাগে, কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জাতীয় দলের লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করা।”
এই ম্যাচে রোনাল্ডোর পাশাপাশি গোল করেন নুনো মেন্ডেস ও রাফায়েল লিয়াও। এছাড়াও প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের আত্মঘাতী গোল পর্তুগালের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার পথে এই জয় পর্তুগালকে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। আর রোনাল্ডো আবারও বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু গোল মেশিন নন, দলের স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করতেও সর্বদা প্রস্তুত।