## *খামেনেইর শেষকৃত্যে তিন পুত্র উপস্থিত, অনুপস্থিত নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা; বাড়ছে জল্পনা*

admin
2 Min Read

*তেহরান:* ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্যে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। তবে পুরো অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন তাঁর উত্তরসূরি মোজতবা খামেনেই, যিনি শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

রবিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে খামেনেইর তিন ছেলে—মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনেই—কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং আইআরজিসি প্রধান আহমাদ বাহিদিও উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনেইর কফিনের পাশে তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়েছে, যাঁরা একই হামলায় নিহত হন। তাঁদের মধ্যে একটি শিশুকন্যাও ছিল। অনুষ্ঠানে মাসউদ খামেনেইকে আবেগাপ্লুত হয়ে চোখের জল মুছতেও দেখা যায়।

সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর অনুপস্থিতি। মার্চ মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনও পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি বা কোনও প্রকাশ্য বক্তব্যও দেননি। শেষকৃত্যে তিনি অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়েও ইরানি কর্তৃপক্ষ কোনও স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।

ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোজতবার উপস্থিতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর নিজস্ব দফতরের বিষয়। শেষকৃত্য আয়োজক কমিটির প্রধান আলি আকবর পুরজামশিদিয়ানও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা খামেনেই গুরুতর আহত হন। তাঁর পায়ে এবং মুখে গুরুতর আঘাত লাগে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র। এরপর থেকে তাঁর কোনও সাম্প্রতিক ছবি বা প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তাঁকে সম্পূর্ণভাবে জনসমক্ষে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকি তাঁর কণ্ঠস্বরও প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, *দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস*-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনেইর ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তাঁর নিরাপত্তা দল তাঁকে শেষকৃত্যে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেয়। ফলে শেষ মুহূর্তে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।

ইরান সরকার জানিয়েছে, প্রয়াত আলি খামেনেইকে শ্রদ্ধা জানাতে দেশজুড়ে এক সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ এই শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং শেষযাত্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষের উপস্থিতির আশা করছে প্রশাসন।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *