*নয়াদিল্লি:* দেশের বিভিন্ন প্রান্তে টানা বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস, আকস্মিক বন্যা, রাস্তা ভেঙে যাওয়া এবং জলাবদ্ধতার ঘটনা বেড়েই চলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতার মধ্যেই পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে নিচের ছয়টি পর্যটন এলাকায় বর্তমানে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
*১. লোনাভালা ও খান্ডালা (মহারাষ্ট্র):*
পশ্চিমঘাট অঞ্চলে লাগাতার বৃষ্টির কারণে একাধিক স্থানে ধস নেমেছে। মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে এবং কারজাত-লোনাভালা সড়কে যান চলাচল বারবার ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে।
*২. তীর্থন ভ্যালি ও চাম্বা (হিমাচল প্রদেশ):*
প্রবল বর্ষণে লারজি-সাইনজ এবং চাম্বা-তিসা সড়কে ধস ও পাথর গড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে ট্রেকিং কিংবা পাহাড়ি ভ্রমণ আপাতত স্থগিত রাখাই নিরাপদ।
*৩. গঙ্গোত্রী (উত্তরাখণ্ড):*
চারধাম যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ গঙ্গোত্রী হাইওয়েতে একাধিক স্থানে ভূমিধস হয়েছে। পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল থাকায় প্রশাসনের ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
*৪. ডোডা ও কিশ্তোয়ার (জম্মু ও কাশ্মীর):*
টানা বৃষ্টিতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের অপ্রয়োজনীয় যাত্রা না করার আবেদন জানানো হয়েছে।
*৫. ধেমাজি ও অসম-অরুণাচল প্রদেশের বন্যাকবলিত এলাকা:*
বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে বহু রাস্তা ও রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি অঞ্চল এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। ফলে এই এলাকায় ভ্রমণ আপাতত নিরাপদ নয়।
*৬. ওয়েনাড় (কেরল):*
সাম্প্রতিক ভূমিধসের ঘটনায় ওয়েনাড়ের মীনাক্ষী ও চুরালমালা সংলগ্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। যদিও জেলার সব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত নয়, তবুও ধসপ্রবণ এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা এবং রাস্তার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই যাত্রা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।