*তেহরান:* ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলোর সামনে ভিন্ন ভিন্ন কোরআনের আয়াত পাঠ করা হয়েছিল, আর সেই আয়াতগুলির মধ্যেই তেহরানের কূটনৈতিক বার্তা লুকিয়ে ছিল কি না—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে।
ইরান সরকার এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে যে আয়াতগুলো পাঠ করা হয়, সেগুলি সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নির্বাচন করা হয়ে থাকতে পারে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে সৌদি আরবের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি। প্রতিনিধি দলটি যখন খামেনির মরদেহের কাছে পৌঁছায়, তখন সূরা আলে ইমরানের একটি আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে বদরের যুদ্ধ এবং সীমিত শক্তি নিয়ে বড় প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার প্রসঙ্গ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আয়াতকে অনেকেই প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছেন।
তুরস্কের প্রতিনিধি দলের ক্ষেত্রেও সংগ্রাম ও দায়িত্ব নিয়ে একটি আয়াত পাঠ করা হয়। অন্যদিকে, লেবাননের সরকারি প্রতিনিধি দল এবং হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা আলাদা আয়াত নির্বাচন করা হয়। হামাস প্রতিনিধিদলের সামনে পাঠ করা হয় প্রতিশ্রুতি রক্ষা সম্পর্কিত একটি আয়াত, যা ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
শেষকৃত্যে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতোল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনির সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। তিনি কফিনের কাছে পৌঁছানোর সময় একটি নির্দিষ্ট আয়াত পাঠ শুরু হলেও তা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই সেখান থেকে সরে যান। এই ঘটনাকে ঘিরেও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, যদিও এ বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে ধর্ম, রাজনীতি ও কূটনীতি প্রায়শই একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের প্রতিটি প্রতীকী উপাদান—এমনকি কোরআনের আয়াত নির্বাচনও—আন্তর্জাতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলায় এই বিতর্কের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।