ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা–বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬: বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলতে আগরতলায় দুই দিনের সম্মেলন

ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা–বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬: বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলতে আগরতলায় দুই দিনের সম্মেলন

আগরতলা, ৯ জুলাই: ত্রিপুরাকে দেশের অন্যতম বিনিয়োগবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগরতলার হাপানিয়া আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা – বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬’। দুই দিনব্যাপী এই কনক্লেভে দেশ-বিদেশের শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে রাজ্যের শিল্প, বাণিজ্য ও পরিকাঠামোগত সম্ভাবনা তুলে ধরছে ত্রিপুরা সরকার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা, পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, মন্ত্রী রতন লাল নাথ, সন্তানা চাকমা, শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিট্টে-সহ রাজ্যের মন্ত্রী, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।

উদ্বোধনের আগে মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রদর্শনী স্টল ঘুরে দেখেন। পরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কনক্লেভের সূচনা হয়। বিদেশি অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয় ও রিসা পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।

ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, ত্রিপুরা দ্রুত উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে এবং শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার নেতৃত্বের প্রশংসা করে রাজ্যের উন্নয়নকে দেশের প্রবৃদ্ধির অংশ বলে উল্লেখ করেন।

কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম. সিন্ধিয়াও ভার্চুয়ালি বক্তব্য রেখে বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে ত্রিপুরায় প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, আগামী দিনে শিল্প ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে ত্রিপুরা।

মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা তাঁর বক্তব্যে জানান, গত ছয় বছরে ত্রিপুরার জিএসডিপি দ্বিগুণ হয়েছে। জাতীয় সড়ক, রেল, বিমান, ইন্টারনেট ও ব্যাংকিং পরিকাঠামোর উন্নয়নের ফলে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাস, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাবার উৎপাদন, জিআই-স্বীকৃত কুইন আনারস, আগর, বাঁশ ও উদ্যানপালন শিল্প ত্রিপুরাকে বিনিয়োগের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ‘ওয়ান বিজনেস, ওয়ান লাইসেন্স’, সিঙ্গেল উইন্ডো পোর্টাল ‘সওয়াগত’, ডিজিটাল ল্যান্ড ব্যাংক এবং দ্রুত অনুমোদন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজ্য সরকারের দাবি, গত এক বছরে ৩০ হাজার কোটিরও বেশি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে ৮ হাজার কোটিরও বেশি টাকার প্রকল্প ইতিমধ্যেই বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের আশা, এই বিজনেস কনক্লেভের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *