দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও শিশুকেন্দ্রিক করতে রাজ্য-স্তরের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের সূচনা

দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও শিশুকেন্দ্রিক করতে রাজ্য-স্তরের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের সূচনা

admin
2 Min Read

আগরতলা, ৯ জুলাই: রাজ্যের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে ‘দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত বিধিমালা, ২০২২’ (Adoption Regulations, 2022)-এর উপর রাজ্য-স্তরের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে।

সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, জেলা শিশু সুরক্ষা ইউনিটের প্রতিনিধি, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য, বিশেষায়িত দত্তক সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপদ, স্নেহময় ও মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকারের প্রণীত ‘দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত বিধিমালা, ২০২২’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, ‘কিশোর বিচার (যত্ন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৫’ (২০২১ সালে সংশোধিত) এবং Adoption Regulations, 2022-এর মাধ্যমে দত্তক গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুকেন্দ্রিক করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কেন্দ্রীয় দত্তক সম্পদ কর্তৃপক্ষ (CARA)-এর মাধ্যমে ভারত সরকার এমন একটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার লক্ষ্য অনাথ, পরিত্যক্ত ও আত্মসমর্পণকারী শিশুদের দ্রুত একটি নিরাপদ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করা। পরিবারভিত্তিক পরিচর্যাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ একটি স্থায়ী পারিবারিক পরিবেশ শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দত্তক গ্রহণের আইনি কাঠামো, অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ সংরক্ষণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা, নথিপত্র যাচাই, আদালত-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং বিধিমালার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের আশা, এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও গতি আসবে এবং অনাথ, পরিত্যক্ত ও আত্মসমর্পণকারী শিশুদের দ্রুত একটি নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *