*নয়াদিল্লি:* এল নিনোর প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নতুন করে গতি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টির ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত যেখানে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ৩৮ শতাংশ, তা নেমে এসেছে ১৫ শতাংশে।
গত কয়েক দিনে মহারাষ্ট্রের মুম্বই, পুনে-সহ একাধিক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত মুম্বইয়ের কোলাবায় ১,৩৮৩.৮ মিলিমিটার এবং সান্তাক্রুজে ১,৫৩০.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে প্রায় ৭৮ ও ৯৪ শতাংশ বেশি।
শুধু মহারাষ্ট্র নয়, গুজরাট, কঙ্কন-গোয়া, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশাতেও বর্ষা সক্রিয় হওয়ায় দেশের সামগ্রিক বৃষ্টির পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ও ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক কে. জে. রমেশ জানান, এল নিনো থাকলেই পুরো বর্ষা মৌসুমে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে—এমন নয়। তাঁর মতে, আরব সাগর ও নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি, পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপ একসঙ্গে সক্রিয় হওয়ায় প্রচুর আর্দ্রতা ভারতে প্রবেশ করেছে। ফলে গত কয়েক দিনে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভালো বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুকূল আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণেই এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে এবং মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের বৃষ্টির ঘাটতি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছে।