ধনপুর বিধানসভা এলাকায় শীত পড়তেই শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের ব্যস্ততা। এলাকার বিভিন্ন গ্রাম—বিশেষ করে কাঠালিয়া বাজার, দক্ষিণ মহেশপুর, সোনামুড়ার মোহনভোগ—জুড়ে এখন খেজুর গাছ কাটার শব্দ, হাঁড়ি ঝোলানোর প্রস্তুতি আর ভোরবেলার রস সংগ্রহের চেনা দৃশ্য।
গাছিয়ালরা জানাচ্ছেন, এবারও বাজারে *লালি* ও *নলেন গুড়ের* চাহিদা প্রবল। কিন্তু সমস্যাও রয়েছে—লালি ও নলেনের দাম সাধারণ গুড়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আখের গুড় মিশিয়ে ভেজাল বিক্রির চেষ্টা করছেন। ফলে ক্রেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞ গাছিয়ালরা।
দক্ষিণ মহেশপুরের *কৃষ্ণ মজুমদার* জানান—তিনি এ মৌসুমে ২৫টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিন ভোররাতে গাছে ওঠা, হাঁড়ি নামানো, রস ছাঁকা—সব মিলিয়ে কঠোর পরিশ্রমের কাজ। তাঁর ভাষায়, “সব জিনিসের দাম বাড়ছে। খেজুর রসের কাজ করতে প্রচুর পরিশ্রম লাগে। তাই ১ লিটার লালি বিক্রি করতে হবে ৪০০ টাকা দরে।”
অন্যদিকে মোহনভোগ ব্লকের চন্দুল এডিসি ভিলেজের *নিকুঞ্জ দাস*, যিনি প্রতিদিন সকাল-বিকেল ১৫টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন, জানান—শীত যত বাড়বে রস তত ভালো হবে। তিনি বলেন—পোড়ামাটির হাঁড়ি পরিষ্কার রাখা জরুরি, এতে রসের স্বচ্ছতা ও লালির সুগন্ধ দুটোই বজায় থাকে।
গাছিয়ালদের বক্তব্য—*অভিজ্ঞ হাতের রসই নিরাপদ, কারণ খেজুর রস অত্যন্ত সংবেদনশীল পানীয়; একটু অসাবধানতায় ভেজাল বা নিম্নমানের রস বাজারে চলে যেতে পারে। তাই তারা ক্রেতাদের অনুরোধ করেছেন—বিশ্বস্ত গাছিয়ালদের কাছ থেকে রস ও গুড় সংগ্রহ করতে।স্থানীয় বাজারে ইতিমধ্যেই লালির ঘ্রাণ; রসের হাঁড়ি আর গাছিয়ালের ব্যস্ততা জানিয়ে দিচ্ছে—ধনপুরে একেবারে পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়েছে **শীতের খেজুর রসের মৌসুম*।