আগরতলার নবনামকরণ হওয়া *লোকভবনে* আজ মর্যাদার সঙ্গে উদযাপিত হলো *নাগাল্যান্ড প্রতিষ্ঠা দিবস। এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল **ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু*। নাগাল্যান্ড থেকে আগত প্রতিনিধিদের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন—নাগাল্যান্ডের ইতিহাস, কৃষ্টি, ভাষা ও সংস্কৃতি ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অনুষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—
১৯৬৩ সালের *১ ডিসেম্বর* নাগা হিলস ও তুয়েনসাং ফ্রন্টিয়ার ডিভিশনকে একত্রিত করে নাগাল্যান্ডকে ভারতীয় ইউনিয়নের *১৬তম রাজ্য* হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তী বছরে, অর্থাৎ *১৯৬৪ সালে, প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তারা স্মরণ করিয়ে দেন—এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল **১৯৬২ সালের ‘নাগাল্যান্ড স্টেট অ্যাক্ট’* পাসের মাধ্যমে, যা রাজ্যটিকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান—নাগাল্যান্ডের প্রতিষ্ঠা দিবস শুধু একটি তারিখ নয়; এটি নাগা জনগোষ্ঠীর *স্বায়ত্তশাসন, **সংস্কৃতি রক্ষা, **পরিচয়ের স্বীকৃতি* এবং তাদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়—১ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয় নাগাল্যান্ডের বিখ্যাত *হর্নবিল উৎসব*, যা রাজ্যের ঐতিহ্য বহনকারী অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসব।
আজকের দিনের আরেক বড় তাৎপর্য—*ত্রিপুরার রাজভবন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লোকভবন’ নামে পরিচিত হতে শুরু করেছে ১ ডিসেম্বর থেকেই*। ফলে নাগাল্যান্ড স্টেটহুড ডে উদযাপন ও নতুন নামকরণের ঘোষণা—দুটি ঘটনাই আজকের দিনটিকে আরও ঐতিহাসিক করে তুলেছে।
উপস্থিত অতিথিরা জানান—এ ধরনের আয়োজন দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর পরস্পর সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যায়।