আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে তফসিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে শুক্রবার পালিত হলো ভারতের সংবিধান প্রণেতা ড. বি.আর. আম্বেদকরের ৭০তম প্রয়াণ দিবস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু, তফসিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস, তপশিলি উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরীসহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রাতঃকাল থেকেই উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে কঠোর নিরাপত্তার পাশাপাশি ছিল স্মরণ-অনুষ্ঠানের বিশেষ আয়োজন। আম্বেদকরের প্রতিকৃতিতে রাজ্যপাল, মন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা ফুল-মালা অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। এরপর শুরু হয় স্মৃতিচারণা ও আলোচনাসভা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, আম্বেদকর শুধু সংবিধান রচনাই করেননি—তিনি দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে যে বিস্তৃত চিন্তাধারা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সমাজে বৈষম্য দূরীকরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমান সুযোগ সুনিশ্চিত করার তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে ভারতের বিকাশযাত্রার অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী সুধাংশু দাস বক্তব্যে তুলে ধরেন ত্রিপুরা সরকার তফসিলি জাতি অংশের আর্থসামাজিক অগ্রগতির জন্য যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে—বিশেষত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, আবাসিক স্কুল, স্কলারশিপ, কোচিং সহায়তা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সরকারের নিয়মিত সচেষ্ট পরিকল্পনা তফসিলি জাতির পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে বাস্তব ফল এনে দিচ্ছে।
তপশিলি উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে আম্বেদকরের আদর্শ আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে প্রশাসন ও দপ্তরগুলো একসঙ্গে কাজ করছে।
অনুষ্ঠনকে কেন্দ্র করে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ চত্বরজুড়ে ছিল উৎসাহপূর্ণ পরিবেশ। বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন প্রয়াণ দিবস পালনে। দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে এই ধরনের স্মরণ-অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে যাতে নতুন প্রজন্ম আম্বেদকরের জীবনদর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে।