খোয়াই জেলার উত্তর রামচন্দ্রঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের নবোদয় বিদ্যালয় পাড়ায় ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে বিএসএফের ৭০ ব্যাটেলিয়ানের নতুন হেডকোয়ার্টার গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৩৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং জমির মালিকদের যথাযথ নোটিশ পাঠিয়ে ন্যায্যমূল্য দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এর মধ্যেই গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় রাবার চাষির কাছ থেকে।
অভিযোগকারীর নাম দিব্যেন্দু দাস—পেশায় দরিদ্র রাবার চাষি। তাঁর দাবী, পাঁচ কানী আয়তনের রাবার বাগানে তিনি ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু প্রশাসন বা ভূমি দপ্তরের তরফে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়েই সম্প্রতি তাঁর বাগানের তিন শতাধিক রাবার গাছ কেটে ফেলে বিএসএফ–এর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকা জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
দিব্যেন্দু দাস জানান, হঠাৎ বাগান কেটে দেওয়ায় পরিবারটি গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। রাবার চাষই ছিল তাঁদের একমাত্র আয়ের উৎস। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি চাষির। তাঁর কথায়—“যদি আগে জানানো হতো, তবে অন্তত ক্ষতির হিসাব বুঝতে পারতাম। এখন পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।”
এদিকে অভিযোগের ওপর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উত্তর রামচন্দ্রঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিকে রাবার গাছের উপযুক্ত মূল্য দিয়ে সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, “চাষির ক্ষতি পূরণ করা জরুরি। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে বলেই আশা।”
তবে রাবার বাগান কাটা বা জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণের পূর্ণাঙ্গ নথি ও ক্ষতিপূরণের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে, তবে অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন অবশ্যই জরুরি, তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ভূমির মালিকদের আইনসিদ্ধ অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করেই এমন নির্মাণ কাজ হওয়া উচিত। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বজায় রয়েছে।