ত্রিপুরা–বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। রাজ্যের কলমচওড়া থানার অন্তর্গত পুটিয়া সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্যকর ভাবে দুই নাবালক গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তারা রাজধানীর জিবি হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুটিয়া এবং আশপাশের বিস্তৃত এলাকায় উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাতের অন্ধকারে পাচারের একটি ঘটনার সময় বিএসএফের গুলিতে দুই নাবালক আহত হয়। তবে এই দাবি এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। প্রশাসন জানিয়েছে—ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুরো বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দুই কিশোরের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে এবং তারা কীভাবে সীমান্ত এলাকায় উপস্থিত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সময় সীমান্তে টহলরত বিএসএফ জওয়ানদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর তরফে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার অঞ্চলে গত কয়েক মাস ধরে পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং রাতের সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ও সন্দেহজনক গতিবিধি বাড়ছে। তবে দুই নাবালক কীভাবে গুলির আঘাতে পড়ল, সে বিষয়ে বিএসএফ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও দেয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন। কারণ স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে নাবালকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রয়ে গেছে।
নাবালকরা গুরুতর আহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুটিয়া ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় টহলও আরও জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তের স্বার্থে প্রশাসন আপাতত বিস্তারিত মন্তব্য করতে নারাজ। দুই নাবালকের স্বাস্থ্যপরিস্থিতি নিয়ে জিবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।