ত্রিপুরা–অসম সীমান্তের চুরাইবাড়িতে ফের অচল জাতীয় সড়ক–৮। রবিবার দুপুর থেকে পণ্যবাহী গাড়ির চালকেরা সেইলটেক্স সংলগ্ন চুরাইবাড়ি নাকা পয়েন্টে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ, টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ত্রিপুরা থেকে বহিঃরাজ্যে যাওয়া প্রায় সব ট্রাক চুরাইবাড়ি থানার সামনে তল্লাশির কারণে আটকে রয়েছে।
*গাঁজা পাচার রুখতেই কঠোর চেকিং, কিন্তু তাতেই ভোগান্তি চরমে*
পুলিশের দাবি, ত্রিপুরা থেকে গাঁজা পাচার বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রতিটি গাড়িকে বিশদভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু চালকদের বক্তব্য, নাকা পয়েন্টে জায়গার অভাব, জনবল সংকট এবং দুর্বল পরিকাঠামোর জন্য চেকিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। ফলে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ট্রাকগুলোকে।
*খাবার–জল, বাথরুম, নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই বিপর্যস্ত চালকেরা*
দীর্ঘদিন আটকে থাকায় খাবার ও পানীয় জলে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বাথরুমের চরম সমস্যা, রেশন ফুরিয়ে যাওয়া এবং রাতে ডিজেল, ব্যাটারি, টায়ার চুরির আশঙ্কা আরও বাড়ছে বলে জানান চালকেরা।
অনেকে বলছেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় EMI পরিশোধ অসম্ভব হয়ে পড়ছে, পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
*অন্য রাজ্যে স্ক্যানার মেশিন আছে, চুরাইবাড়িতে নেই—অভিযোগ*
চালকদের ক্ষোভ—দেশের বিভিন্ন আন্তঃরাজ্য সীমান্তে স্ক্যানার মেশিন বসানো হলেও ত্রিপুরা–অসম সীমান্তের চুরাইবাড়িতে এখনও তা বসানো হয়নি।
তাঁদের দাবি,
“স্ক্যানার থাকলে কয়েক সেকেন্ডেই গাড়ি চেক হয়ে যেত, দিনের পর দিন আটকে থাকতে হতো না।”
*৭০০–র বেশি ট্রাকের দীর্ঘ লাইন*
বর্তমানে চুরাইবাড়িতে ৭০০–রও বেশি পণ্যবাহী ট্রাক এবং একাধিক যাত্রীবাহী যান আটকে আছে বলে দাবি চালকদের। ক্রমশ বাড়ছে যানজট ও দুর
*পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সমাধান অধরা*
খবর পেয়ে চুরাইবাড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বিক্ষুব্ধ চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে। কিন্তু চালকেরা অবরোধ প্রত্যাহারে অনড় থাকায় এনএইচ–৮ এখনও অচল।
*সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি*
চালকদের বক্তব্য—
যতদিন আধুনিক স্ক্যানার ব্যবস্থা চালু না হবে, পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ না হবে, এবং নাকা পয়েন্টে পরিকাঠামো উন্নত না হবে—ততদিন এ সমস্যা অব্যাহতই থাকবে।
এখন নজর রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দিকে—
*চুরাইবাড়ির অচলাবস্থা কবে কাটবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।*