আগরতলার রবীন্দ্রভবন প্রাঙ্গণে শুক্রবার ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে এক বৃহৎ যোগদান সভার আয়োজন করা হয়। বিজেপির জনজাতি মোর্চার আহ্বানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর মানিক সাহা, বিজেপি প্রদেশ সভাপতি ও সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যসহ রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।
বিজেপি সূত্রের দাবি, এই যোগদান কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মথা সহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল ছেড়ে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক বিজেপিতে যোগদান করেছেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে রবীন্দ্রভবনের সামনের এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
নবাগতদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা তাঁদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, নানা ধরনের হুমকি কিংবা অপপ্রচার চললেও আগামী দিনে খুমলুং এলাকায় বিজেপির পক্ষ থেকে সু-বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি আসন্ন এডিসি নির্বাচনে বিজেপি খুমলুং এলাকার ক্ষমতা দখল করবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী মথা সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিশানা করেন। তাঁর দাবি, বিজেপির নেতৃত্বে রাজ্যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জনজাতিদের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশজুড়ে জনজাতিদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উদাহরণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একজন জনজাতি সাধারণ ঘরের মহিলাকে দেশের রাষ্ট্রপতি করা এবং ত্রিপুরা রাজ্যের রাজ পরিবারের এক সদস্যকে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা—এই দুটি পদক্ষেপ জনজাতিদের প্রতি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে রাজ্যের শাসক শিবিরের দুই অংশ বিজেপি ও মথার মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে আজকের যোগদান সভা ও বিজেপি নেতৃত্বের রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে মথা কী অবস্থান গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন রাজনৈতিক মহলের নজর।