ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখার আশায় কেউ ৫ হাজার, কেউ বা ১৪ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন। শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেই প্রত্যাশা নিয়েই হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার দর্শক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসির দেখা না পাওয়ায় হতাশা, ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার ছবি উঠে এল স্টেডিয়ামে।
দর্শকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে মেসি বা তাঁর সঙ্গে আসা তারকা ফুটবলারদের সাধারণ দর্শকের সামনে আনা হয়নি। এর জেরে এক পর্যায়ে স্টেডিয়ামের একাংশ থেকে জলের বোতল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেসি সহ অন্যান্য ফুটবলারদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, সাধারণ দর্শকদের জন্য কোনও স্পষ্ট ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। তাঁদের দাবি, মাঠে যাঁদের দেখা মিলেছে, তাঁরা মূলত মন্ত্রী, প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি ও আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিরা। কিন্তু সাধারণ মানুষ, যাঁরা টিকিট কেটে এসেছিলেন, তাঁরা মেসি, লুইস সুয়ারেজ কিংবা রদ্রিগো ডি’পল—কারও জলজ্যান্ত উপস্থিতি চোখের সামনে দেখতে পাননি।
দর্শকদের মধ্যে আরও ছড়িয়ে পড়ে নানা জল্পনা। কেউ কেউ বলেন, মেসি নাকি কলকাতা না থেমে ঢাকায় চলে গিয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়নি।
এই হতাশার আবহেই এক দর্শক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানান, মেসিকে দেখতে নিজের বিয়ে পর্যন্ত ছেড়ে এসেছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজ আমার বিয়ে ছিল। সেটা ছেড়ে মেসিকে দেখতে এসেছি। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। উনি এসেছেন—এটা ভাল লাগছে ঠিকই, কিন্তু এত দূর থেকে যেটুকু দেখা গেল, তার থেকে আরও ভাল কিছু আশা করেছিলাম।”
এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই সামনে আসে আরও বড় খবর। শনিবার থেকে শুরু হওয়া মেসির ভারত সফরের মূল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যায়, কলকাতার অনুষ্ঠান শেষে মেসিকে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। যুবভারতীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর তিনি কলকাতা ছাড়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে আটক করে পুলিশ এবং পরে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোটা আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শক ব্যবস্থাপনা এবং টিকিট বিক্রি সংক্রান্ত একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দর্শকদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে কি না, সেই দিকটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকাকে দেখতে এসে শনিবার যুবভারতীতে সাধারণ দর্শকদের বড় অংশের অভিজ্ঞতা রয়ে গেল হতাশা ও ক্ষোভে ভরা। এখন প্রশ্ন—হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটা দর্শকদের প্রত্যাশা কি আদৌ পূরণ হল?