নয়াদিল্লি : কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বহু প্রতীক্ষিত অষ্টম পে কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর হওয়ার সময়সীমা নিয়ে জল্পনা চলছেই। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো চালু হবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সংসদে স্পষ্ট অবস্থান জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।
কবে কার্যকর হবে অষ্টম পে কমিশন?
লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি জানান, *অষ্টম পে কমিশনের কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন গঠিত হলেও কবে থেকে তার সুপারিশ কার্যকর হবে, তা **পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে* বলে সংসদকে জানানো হয়েছে।
কী অবস্থায় রয়েছে কমিশনের কাজ?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী—
অষ্টম পে কমিশন গঠন করা হয়েছে
কমিশনের *Terms of Reference (ToR)* নোটিফাই করা হয়েছে
কমিশন গঠনের তারিখ থেকে *১৮ মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা* নির্ধারিত
এই সময়সীমা অনুযায়ী, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন *২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে* জমা পড়তে পারে। রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরেই সরকার বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
কারা উপকৃত হবেন?
সংসদে জানানো তথ্য অনুযায়ী—
প্রায় ৫০.১৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী
প্রায় ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগী
অষ্টম পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
DA/DR মার্জ নিয়ে সরকারের অবস্থান
সরকার স্পষ্ট করেছে, *বর্তমানে মূল বেতনের সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা (DA) বা মহার্ঘ ত্রাণ (DR) মার্জ করার কোনও প্রস্তাব নেই*।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, *AICPI-IW সূচকের ভিত্তিতে প্রতি ছয় মাস অন্তর DA ও DR সংশোধন করা হবে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের DA/DR হার ৫৫ শতাংশ।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?*
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে এখনও কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। বিভিন্ন আর্থিক সংস্থার রিপোর্টে সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর *১.৮৩ থেকে ২.৪৬*-এর মধ্যে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, সরকার এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেয়নি।
সংক্ষেপে*
* অষ্টম পে কমিশন গঠিত, ToR নোটিফাই
* *১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে—এমন কোনও সরকারি ঘোষণা নেই*
* কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা ১৮ মাস
* DA/DR মার্জের কোনও পরিকল্পনা নেই
* প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি কর্মচারী ও পেনশনভোগী সরাসরি প্রভাবিত হবেন
কমিশনের রিপোর্ট জমা ও সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের।