পাম্প আছে, জল নেই: ধলাইয়ের সাউথ ধুমাছড়ায় ১৫ বছরের সেচ সংকট, বঞ্চনার অভিযোগ কৃষকদের

পাম্প আছে, জল নেই: ধলাইয়ের সাউথ ধুমাছড়ায় ১৫ বছরের সেচ সংকট, বঞ্চনার অভিযোগ কৃষকদের

3 Min Read

ধলাই :পাম্প মেশিন রয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগও আছে—তবুও জমিতে জল পৌঁছায় না। এমনই চরম বাস্তব চিত্র ধলাই জেলার লংতরাইভ্যালী মহকুমার মনু ঘাট সংলগ্ন সাউথ ধুমাছড়া এলাকায়। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে সেচের জলের অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার প্রায় ৫০টি কৃষক পরিবার। সরকারি জলসম্পদ দপ্তরের অব্যবস্থাপনা ও বিকল পাম্প মেরামতে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় দেড় দশক আগে সাউথ ধুমাছড়া এলাকায় জলসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। কিছুদিন চলার পর সেটি বিকল হয়ে পড়ে। এরপর একাধিকবার দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও আজ পর্যন্ত পাম্পটি সচল করার কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলস্বরূপ কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় সেচের জল পৌঁছচ্ছে না, বারবার ফসল নষ্ট হচ্ছে।

এক প্রবীণ কৃষক জানান,
“প্রতি বছর ফসল বুনি অনেক আশা নিয়ে। কিন্তু জল না থাকায় চারা শুকিয়ে যায়। গত ১৫ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পেয়েছি, বাস্তবে কিছু হয়নি।”

কৃষকদের ক্ষোভ আরও তীব্র, যখন তাঁরা দেখছেন বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাদের ‘কৃষক দরদী’ কর্মসূচির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁদের প্রশ্ন—“গামছা পরিয়ে ছবি তোলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের জমিতে জল পৌঁছচ্ছে না কেন?”

স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন, পঞ্চায়েত এবং জলসম্পদ দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই সেই আবেদন ‘লাল ফিতার ফাঁস’-এ আটকে গেছে। কৃষকদের মতে, একটি পাম্প মেরামত বা নতুন পাম্প বসাতে ১৫ বছর লেগে যাওয়া অমানবিক এবং রাজ্যের কৃষি নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধলাই জেলার মতো পাহাড়ি এলাকায় কৃষি মূলত বৃষ্টির জলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু রবি ও বোরো মরসুমে সেচের জল না থাকলে চাষ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। সাউথ ধুমাছড়ার বর্তমান পরিস্থিতি গোটা এলাকার কৃষি অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

কৃষক পরিবারগুলির স্পষ্ট দাবি—এখন আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত বিকল পাম্প মেরামত করে জমিতে জল পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় বাধ্য হয়েই তাঁদের কৃষিকাজ ছেড়ে বিকল্প পেশার সন্ধান করতে হবে, যা ভবিষ্যতে এলাকার খাদ্য সুরক্ষার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই দীর্ঘ ১৫ বছরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জলসম্পদ দপ্তরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

প্রশ্ন উঠছে—এই ৫০টি কৃষক পরিবারের ১৫ বছরের কান্না কি শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কানে পৌঁছবে? নাকি আরও কয়েকটি মরসুম এভাবেই জলহীন জমির দিকে তাকিয়ে দিন গুনতে হবে ধলাইয়ের সাউথ ধুমাছড়ার কৃষকদের?

Share This Article
Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *