কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলাকাণ্ড এবার আদালতের পথে পৌঁছেছে। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এই ইস্যুতে তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাগুলিতে *ইডি ও সিবিআই-র মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত এবং স্টেডিয়ামে ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। তিনটি মামলার মধ্যে একটি দায়ের করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, আর দুটি পৃথকভাবে দায়ের করেছেন আইনজীবী *সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়* ও *মৈনাক ঘোষাল*।
মামলাকারীদের অভিযোগ, GOAT ইন্ডিয়া টুরে মেসির কলকাতা সফরের প্রথম দিন ব্যবস্থাপনা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দর্শকরা হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসি চলে যাওয়ায় অনেকেই তাঁকে দেখতে পাননি। উত্তেজিত দর্শকরা গ্যালারি থেকে জলের বোতল ছুঁড়ে, শামিয়ানায় আগুন লাগিয়ে, চেয়ার ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনকে কঠোর প্রয়াস চালাতে হয়।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী *মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়* অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি *অসীমকুমার রায়*-কে নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং দর্শক ও মেসির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে এই কমিটির বৈধতা নিয়ে মামলাকারীরা প্রশ্ন তোলেন।
আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্য সরকারের এই ধরনের তদন্ত কমিটি গঠনের কোনও এক্তিয়ার নেই। মৈনাক ঘোষাল আরও দাবি করেন, আদালতের নজরদারিতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক এবং আর্থিক দুর্নীতির দিকও তদন্তের আওতায় আনা হোক।
স্টেডিয়ামে ভাঙচুরের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তার পুনর্সংস্কারের সম্পূর্ণ ব্যয়ভার আয়োজক সংস্থাকে বহনের দাবিও জানানো হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে তাঁর আইনজীবী *বিল্বাদল ভট্টাচার্য* পক্ষপাতহীন তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন।
কলকাতা হাইকোর্ট তিনটি মামলাই গ্রহণ করেছে। *প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল* ও *বিচারপতি পার্থসারথী সেন* নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাগুলির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।