বাংলাদেশ ঢাকা সোমবার ঃ জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক পরদিন ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় ঘটে ভয়াবহ গুলিকাণ্ড। শুক্রবার দুপুরে বাইক আরোহী হামলাকারীর এলোপাথাড়ি গুলিতে গুরুতর জখম হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তিনি বর্তমানে কোমায় রয়েছেন। ঢাকা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাদিকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে তলব করে নির্দেশ দেওয়া হয়, হামলাকারীরা যদি ভারতে পালিয়ে থাকে, তবে তাদের গ্রেফতার করে বাংলাদেশের হাতে হস্তান্তর করা হোক।
তবে পুলিশ ও সরকারের এই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা সীমান্ত পার হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত নেই। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার মহম্মদ তালেবুর রহমান জানান, গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে একাধিক তদন্তকারী দল বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে, কিন্তু এই মুহূর্তে অভিযুক্তদের দেশত্যাগের কোনো নিশ্চিত তথ্য তাদের হাতে নেই।
এমন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, হামলায় যুক্ত দুই ব্যক্তি ১২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকেছে এবং বর্তমানে অসমের গুয়াহাটিতে রয়েছে। অভিযুক্তদের নাম, রাজনৈতিক পরিচয় এবং একটি ভারতীয় মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই দাবির কোনো অংশ এখনও সরকারি ভাবে যাচাই করা হয়নি।
গুলিকাণ্ডের তদন্ত চলতে থাকায় পুলিশের বক্তব্য ও সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপের মধ্যে এই অসামঞ্জস্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।