কৈলাসহর মঙ্গলবার ঃ কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে কলেজের ছাত্রছাত্রী ও এবিভিপি (ABVP)-এর প্রতিনিধিরা অধ্যক্ষ ডক্টর পিনাকী পালকে কার্যত গৃহবন্দী করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে—কলেজ শিক্ষকদের দ্বারা ছাত্রছাত্রীদের প্রতি নিয়মিত হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাফিয়াগিরি ও গুন্ডাগিরির মতো আচরণ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অধ্যক্ষের কক্ষের দরজা বন্ধ করে কক্ষের সামনে মাটিতে বসে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। গোটা দিনজুড়ে কলেজ চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বজায় থাকে।
বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি আদায় করছে। পাশাপাশি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাইভেট কলেজে ভুল রেজিস্ট্রেশন করানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে ভুল রেজিস্ট্রেশন করে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান তাঁরা।
শুধু প্রশাসনিক নয়, পরিকাঠামোগত সমস্যার অভিযোগও তোলেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের দাবি, কলেজে পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই, ছাত্রীদের জন্য আলাদা কমন রুম নেই, এবং টয়লেটগুলো অপরিষ্কার ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর ফলে দৈনন্দিন পড়াশোনার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ ডক্টর পিনাকী পালকে নিয়মিত কলেজে পাওয়া যায় না। তিনি প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। যেসব দিনে অধ্যক্ষ কলেজে উপস্থিত থাকেন, সেসব দিন ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন সমস্যা জানাতে অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক তাঁদের ভয় দেখান, হুমকি দেন এবং অশালীন আচরণ করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে কলেজে শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এই সমস্ত দাবির বিষয়ে স্থায়ী সমাধান কিংবা লিখিত আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীরা।দুপুরে অধ্যক্ষ ডক্টর পিনাকী পাল বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলেও তখন ছাত্রছাত্রীরা আলোচনায় বসতে রাজি হননি। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি কৈলাসহর থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে কৈলাসহর থানার পুলিশ অফিসার অজিত দেনাথের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা হয় এবং সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর বিকেল প্রায় সাড়ে চারটা নাগাদ ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেন।বর্তমানে কলেজে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শিক্ষামহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।