উত্তর ত্রিপুরা | ধর্মনগর : ডেলিভারি কর্মী প্রসেনজিৎ সরকারের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর শহর কার্যত বিস্ফোরণমুখী। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও একজন অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করতে না পারায়** পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ন্যায়বিচারের দাবিতে সোমবার ধর্মনগর শহরজুড়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত হয়। অলিগলি থেকে রাজপথ—একটাই স্লোগান, We Want Justice Prasenjit Sarkar”।
জানা যায়, গত শনিবার একটি *অনলাইন পার্সেল ডেলিভারি* সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রসেনজিৎ সরকারের সঙ্গে পাঁচজনের তীব্র বিবাদ হয়। অভিযোগ, *তিন যুবতী ও দুই যুবক* প্রকাশ্যে প্রসেনজিতকে *গালিগালাজ, অপমান ও নির্মমভাবে মারধর করে। এখানেই শেষ নয়—ঘটনার ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তা **সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়*।
পরিবারের দাবি, এই চরম অপমান ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রসেনজিৎ নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তাঁকে রহস্যজনকভাবে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই গোটা ধর্মনগর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।হত্যার মামলা, তবু গ্রেফতার নেই মৃত প্রসেনজিতের পরিবারের তরফে ধর্মনগর থানায় সুস্মিতা ভট্টাচার্য, সংগীতা ভট্টাচার্য, সৌরভ ভট্টাচার্য, মেঘদ্বীপ ভট্টাচার্য ও পিউ ধর—এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে হত্যার মামলা রুজু করলেও, তিন দিন পেরিয়ে গেলেও একজন অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা যায়নি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযোগ, সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত সংগীতা ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকলেও পুলিশ তার কোনও সন্ধান পাচ্ছে না—এ নিয়ে তদন্তের গতি ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা।শহরজুড়ে প্রতিবাদ এই ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মনগর শহরজুড়ে শত শত যুবক-যুবতী রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা—“আজকের আন্দোলন মাত্র এক শতাংশ। বুধবার সকাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হলে শুধু ধর্মনগর নয়, গোটা ত্রিপুরা জুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে।”
বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে সংগীতা ভট্টাচার্য একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। একজন শিক্ষিকার এমন আচরণ সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক বলেও দাবি তাঁদের।পুলিশের বক্তব্য এ বিষয়ে উত্তর জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানান—রবিবার ধর্মনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের বাড়িতে একাধিকবার হানা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। খুব শীঘ্রই দোষীদের গ্রেফতার করা হবে। উঠছে বড় প্রশ্ন প্রসেনজিৎ সরকারের মৃত্যুর তদন্তে কি আদৌ দ্রুত ন্যায়বিচার মিলবে?নাকি পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় চাপা পড়ে যাবে আরেকটি নিরীহ প্রাণের আর্তনাদ?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তাকিয়ে রয়েছে শুধু ধর্মনগর নয়—গোটা উত্তর ত্রিপুরা।