ত্রিপুরা : প্রতিভা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের অবদান থাকা সত্ত্বেও আইপিএলের নিলামে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে সুযোগ পেলেন না *ত্রিপুরার সিনিয়র ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মণিশঙ্কর মুরাসিংহ*। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ত্রিপুরার হয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মণিশঙ্কর। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস, বল হাতে নিয়মিত উইকেট—সব মিলিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের গ্রাফ বরাবরই ঊর্ধ্বমুখী। তবুও আইপিএলের মতো দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে তার জন্য কোনও দরজা খুলল না। ফলে প্রশ্ন উঠছে—*ছোট রাজ্যের ক্রিকেটারদের জন্য আদৌ কি সমান সুযোগ রয়েছে ?
এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ত্রিপুরার ক্রীড়াপ্রেমীরা। অনেকের মতে, শুধু প্রতিভা ও পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক প্রচার ও শক্তিশালী লবিং। আর সেই জায়গাতেই বারবার পিছিয়ে পড়ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি।
এই ক্ষোভের কেন্দ্রে উঠে এসেছে *ত্রিপুরা ট্যুরিজমের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সৌরভ গাঙ্গুলির ভূমিকা*। রাজ্যের মানুষের প্রশ্ন—একজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব হয়েও, ত্রিপুরার মুখ হিসেবে থাকা সত্ত্বেও, রাজ্যের নিজের ছেলের জন্য কি সামান্য সুযোগ তৈরি করা যেত না? সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ্য দাবি উঠেছে, সৌরভ গাঙ্গুলিকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরির পদ থেকে সরানো হোক।
একই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে ত্রিপুরার পর্যটন দপ্তর ও ক্রীড়া প্রশাসন। ক্রীড়া প্রতিভাকে সামনে রেখে রাজ্যের ব্র্যান্ডিং করার বাস্তব সুযোগ থাকলেও, বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়—তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। আরও বড় প্রশ্ন—*রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকুরাই কোথায়?* আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে রাজ্যের সেরা ক্রিকেটার বাদ পড়ার পর ক্রীড়া দপ্তরের তরফে কোনও সুপারিশ, প্রতিবাদ বা স্পষ্ট বিবৃতি সামনে না আসায় নীরবতা ঘিরে সমালোচনা তীব্র হয়েছে।
আজ মণিশঙ্কর মুরাসিংহ সুযোগ পাননি। কিন্তু এই ঘটনা শুধুমাত্র একজন ক্রিকেটারের ব্যর্থতার গল্প নয়। এটি ত্রিপুরার ক্রীড়া পরিকাঠামো, নীতি এবং নেতৃত্বের উপর ওঠা এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।
এই প্রতিবেদন কোনও ব্যক্তিকে আক্রমণ করার জন্য নয়—
বরং ত্রিপুরার হাজার হাজার তরুণ ক্রীড়াবিদের হয়ে উঠে আসা এক কঠিন ও জরুরি প্রশ্ন ?