ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে বাংলাদেশের এক নেতার হুমকিমূলক মন্তব্যে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী *হিমন্ত বিশ্ব শর্মা*। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভারত একটি সার্বভৌম ও পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র—এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক বক্তব্য কখনওই মেনে নেওয়া হবে না।
ঘটনার সূত্রপাত ঢাকায়।
১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে *ইনকিলাব মঞ্চ-এর ডাকে একটি বহুদলীয় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের মুখপাত্র **শরীফ ওসমান হাদি-র উপর গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের নবগঠিত রাজনৈতিক দল **ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক **হাসনাত আবদুল্লাহ* ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি দেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার কোনও চেষ্টা করা হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তথাকথিত ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলিকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মণিপুর, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম ও ত্রিপুরার নাম উঠে আসে। একই সঙ্গে তিনি শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’-কে উল্লেখ করে এই অঞ্চলকে ভৌগোলিকভাবে দুর্বল বলেও মন্তব্য করেন।
এই মন্তব্য সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের মন্তব্য “চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক” এবং ভারত এ বিষয়ে কোনওভাবেই চুপ থাকবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ভারত শুধু একটি বিশাল দেশই নয়—এটি একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। তাঁর প্রশ্ন, “বাংলাদেশ কীভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করতে পারে?”
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য যদি ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, তাহলে ভারত তার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে পিছপা হবে না। তাঁর মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহল এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডোরের মতো সংবেদনশীল ভূখণ্ড নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে চর্চা।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের একাংশের এই ধরনের বক্তব্য এবং তার পাল্টা ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া—দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণে নতুন করে চাপ তৈরি করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।