বাংলাদেশ ঢাকা ঃ ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় শীর্ষ দুই সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রথমে প্রথম আলো–এর অফিসের নীচের অংশে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় একদল বিক্ষোভকারী। কিছুক্ষণ পর একই কায়দায় হামলা হয় দ্য ডেইলি স্টার–এর অফিসে। আগুন এবং কালো ধোঁয়ার কারণে নীচে নামতে না পেরে প্রায় ২৫–৩০ জন সাংবাদিক ও কর্মী ১০ তলায় আটকে পড়েন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত সিঁড়ি ব্যবহার করে আটকে থাকা সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।
এই হামলায় দ্য ডেইলি স্টার–এর নিউজরুমের একাংশ পুড়ে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে পত্রিকাটির প্রিন্ট ও অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই রাতে ঢাকার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট-এও হামলার অভিযোগ ওঠে। সেখানে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি চর্চার পীঠস্থানে ধ্বংসলীলা চালানো হয়। এক সময় যেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতির চর্চা হত, সেখানে হামলাকারীরা ‘আল্লাহ হু আকবর’ ধ্বনি তুলে হারমোনিয়াম, তবলা ভেঙে দেয়। এছাড়াও লেখা খাতাগুলি ছিড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং একাধিক ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদের নামে এই তাণ্ডব সংঘটিত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় হামলাকারীরা বলতে শোনা যায়, “এখানে ভারতীয় সংস্কৃতি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চার স্থাপনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, ‘ছায়ানট’ প্রতিষ্ঠা করেন প্রবাদপ্রতীম রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কলিম শরাফি, যিনি নাটক ও নৃত্যনাট্যের মঞ্চ চালু করেছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তিনি গুপ্ত সংগঠনের মতো জেলা শহরে ছায়ানটের শাখা ছড়িয়ে দেন।
এভাবে, এই হামলা এবং তাণ্ডব বাংলাদেশের সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির উপর এক অকালহানি হিসেবে উঠে এসেছে।
Leave a comment