ঢাকার কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো–এর অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই তাণ্ডবের ফলে সাংবাদিক ও কর্মীরা গভীর দুঃখের মধ্যে পড়েছেন।
ডেইলি স্টারের ফটো সাংবাদিক প্রবীর দাশ প্রায় ২৫–৩০ সহকর্মীর সঙ্গে আটকা পড়ে অফিসের ১০ তলায়। আগুন ও ধোঁয়ার কারণে তিনি এবং সহকর্মীরা নিরাপদভাবে নামতে পারেননি। প্রবীর দাশ জানান, তার ক্যারিয়ারে সঞ্চিত গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও হার্ডড্রাইভ ধ্বংস হয়েছে, যা একজন সাংবাদিকের কাছে অমূল্য।
স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শুধু ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ নয়, সেখানে ব্যাপক লুটপাটও হয়েছে। সহকর্মীদের সহানুভূতি ও সান্ত্বনার মাঝেই প্রবীর দাশের কান্নার দৃশ্য নজর কেড়েছে।
একই রাতে ঢাকার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট-এও হামলা চালানো হয়। হারমোনিয়াম, তবলা সহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা হয় এবং কিছু স্থানে আগুন ধরানো হয়। এই ধ্বংসযজ্ঞ দেশের সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং মুক্তচিন্তাকে সরাসরি আঘাত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে সংস্কৃতি শ্বাস নিতে পারে না, সেখানে গণতন্ত্রের টেকসই ভিত্তি ও স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে হামলাকারীরা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, তারা দেশের সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত চালাচ্ছে।
সার্বিকভাবে, এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বা মঞ্চের ক্ষতি নয়, এটি শিল্পী, সাংবাদিক এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর মানসিক আঘাত। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও এটি একটি বড় ধাক্কা।